জলবায়ু সংকট, জরুরি অবস্থা এবং গণতন্ত্রের অবক্ষয়

জলবায়ু সংকট, জরুরি অবস্থা এবং গণতন্ত্রের অবক্ষয়

অনেক দেশে সামরিক বাহিনী ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে, গণতন্ত্রকে সাময়িকভাবে স্থগিত করতে এবং ক্ষমতা গ্রহণের জন্য ব্যবহার করছে। এখন পরিবেশগত সংকট সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ন্যায্যতা দিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তন চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির তীব্রতা এবং ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধির দিকে ধাবিত করছে, তাই আমরা আরও ঘন ঘন জরুরী অবস্থার সম্মুখীন হবো। এর অর্থ হ’ল সামরিক বাহিনীর জরুরী ক্ষমতা এবং গণতন্ত্রের সাময়িক স্থগিতাদেশের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটবে। বেশ কয়েকটি দেশে এই ক্রমাগত জলবায়ু জরুরী অবস্থাগুলি গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক অধিকারগুলিকে ক্রমাগত স্থগিত করার একটি খুব বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে – জলবায়ু সংকট মোকাবেলা করতে এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একই গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োজন।

ঘূর্ণিঝড় মোকা যখন ১৪ মে, ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশের উপকুল এবং মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে, তখন ক্যাটাগরি-ফাইভ গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের কারণে রাখাইন রাজ্যে মর্মান্তিক প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। রাজধানী শহর সিত্তওয়ের অধিকাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

এটি ভালভাবে উপলদ্ধি করা যায় যে ঘূর্ণিঝড় মোকার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির মানব-সৃষ্ট (নৃতাত্ত্বিক) জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ফ্রিকোয়েন্সি এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা কম উপলদ্ধি করা যায় তা হ’ল এই চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সংঘঠিত মৃত্যু, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির ব্যাপ্তি উপর গভীর প্রভাব ফেলে।

উইমেনস পিস নেটওয়ার্ক, যারা সাহসের সাথে মিয়ানমারে নৃশংস দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে রিপোর্ট করে আসছে, ১৬ মে একটি জরুরী ব্রিফিং করেছে যা ঘূর্ণিঝড় মোকার প্রভাবের মূল্যায়ন করেছে। সামরিক জান্তা তার আরো রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য ঘূর্ণিঝড়টিকে যে উপায়ে ব্যবহার করেছে তা ব্রিফিংটি পর্যবেক্ষণ করেছে:

ঘূর্ণিঝড় মোকায় জান্তার প্রতিক্রিয়ার প্রতিবেদনগুলি সামনে আসতে শুরু করেছে, যা প্রকাশ করে যে জান্তা রোহিঙ্গা আইডিপিদের [আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের] সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে নসাৎ করেছে এবং তখন থেকে তাদের শিবির এবং আশেপাশের এলাকায় সাহায্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। এই ধরনের পর্যবেক্ষণ, আরো অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে, ১ ফেব্রæয়ারি, ২০২১-এর অভ্যুত্থানের চেষ্টার পরে রাখাইন রাজ্যে বর্ণবাদকে আরও জোরদার করার জন্য জান্তার কাজগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রাখাইন রাজ্য এবং বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলিতে ঘূর্ণিঝড় মোকার বিধ্বংসী প্রভাব “সুবিধাজনক অবহেলা” হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ২০১৭ সালে সেনাবাহিনী দ্বারা সংঘটিত গণহত্যায় মিয়ানমার থেকে তাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির কথা স্মরণ করে দেয়, যা জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে স্বীকৃত।

এখানেই আমরা জলবায়ুর বিপদাপন্নতা এবং সামরিক শাসনের অধীনে বসবাসকারী জনসংখ্যার বিপদাপন্নতার মিল দেখতে পাই। পদ্ধতিগত রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার মাধ্যমে এই বিপদাপন্নতা বৃদ্ধি পায়। মানুষ শুধুমাত্র তাদের জীবনহানি, তাদের বাড়িঘর ধ্বংস, বঞ্চনা এবং বাস্তুচ্যুতই স্বীকার হয় না, তাদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার বা সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ করে।

ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনার পর মানবিক সংকটে আমরা প্রায়ই দেখি আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সামরিক শাসনের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাকে ন্যায্যতা দেয়। প্রকৃতপক্ষে, কিছু ত্রাণ সংস্থা বিশ্বাস করে যে কেন্দ্রীভ‚ত কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা সাহায্যের জন্য আরও দক্ষ বিতরণ ব্যবস্থা। এটি এই সত্যটিকে উপেক্ষা করে যে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, এবং জনসম্পদ – মানবিক সহায়তা সহ – শক্তিশালী অভিজাত এবং তাদের বন্ধুদের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রথম স্থানে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হল জনসম্পদ চুরি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হ’ল, কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে, মানবিক সংকট এবং মানবিক সাহায্য রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্র এবং/অথবা নির্দিষ্ট জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষী হিসাবে চিহ্নিত জনসংখ্যা মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত। যেমনটি আমরা আজ মিয়ানমারে দেখছি, বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক জান্তার যুদ্ধ মানবিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান পর্যন্ত বিস্তৃত। এর কারণ জটিল নয়। মানবিক সংকটের শিকার হতে এবং মানবিক সাহায্যের জন্য যোগ্য হতে হলে আপনাকে প্রথমে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

১৯৪৫ সাল থেকে আমরা বেশ কয়েকটি দেশে গণতন্ত্রের সমাপ্তির সূচনা দেখেছি (প্রায়শই বিদেশী হস্তক্ষেপ দ্বারা সমর্থিত) যেখানে জাতীয় বা উপ-জাতীয় স্তরে (রাজ্য, অঞ্চল, প্রদেশ) জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় এবং রাস্তায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সৈন্যরা ব্যারাকের বাইরে চলে গেলে, সামরিক জেনারেল এবং তাদের সন্তানরা রাজনৈতিক, বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে দ্রুত অগ্রসর হয়।

এমনকি যদি একটি নির্বাচিত সংসদ বা কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হয়, এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন পুনরায় শুরু হয়, সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক দলগুলির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে এবং রাজনৈতিক, বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে তাদের পদচারণা বজায় রাখে। জনগণের জন্য এটি একটি চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থা হয়ে ওঠে – একটি স্থায়ী সংকটে পরিনত হয়।

এই ক্রমাগত সংকটে “জলবায়ু সহনশীলতা”ও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। জলবায়ু সহনশীলতা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলির জন্য ন্যায়সঙ্গত সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য এবং মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকা এবং পরিবেশ সুরক্ষিত করা নিশ্চিত করার জন্য একটি সম্মিলিত দায়িত্বের সাথে সংপৃক্ত। বর্তমানে আমাদের সম্প্রদায়গুলিতে বৃহত্তর জলবায়ু সহনশীলতার জন্য রাজনৈতিক অভিজাতদের আহ্বানের অর্থ হল আমাদের কেবল পরবর্তী চরম আবহাওয়ার ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে। সমষ্টিগত পদক্ষেপ এবং জবাবদিহিতার জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিনতাই, এবং অধিকারের অনুপস্থিতিতে, জলবায়ু সহনশীলতা অর্থ হ’ল বিপদাপন্ন সম্প্রদায়গুলির আরো সহ্য করা। অথবা সরে যাওয়া।

বেশ কয়েকটি দেশে, অতি ডানপন্থীরা ইতিমধ্যে জলবায়ু অস্বীকার থেকে জলবায়ু আতঙ্কে স্থানান্তরিত হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় (বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ সম্প্রদায়) সমর্থনে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা প্রকাশ করার একটি রাজনৈতিক সুযোগ দেখতে পান। এই নতুন সঙ্কটের মুখে অতি ডানপন্থীরা শক্তিশালী নেতৃত্বের আহŸানের পুনরাবৃত্তি করতে পারে – কর্তৃত্ববাদী শাসনের জন্য একটি জনপ্রিয় শব্দ। জাতির প্রতি বাহ্যিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় প্রতিটি জরুরি অবস্থার মতো, জলবায়ু সংকটটি গণতন্ত্রের স্থগিতাদেশকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য অতি ডানপন্থীরা ব্যবহার করবে।

এই দ্রæত ও ব্যাপক বেগের জলবায়ু সংকটে আমরা চরম আবহাওয়ার ঘটনা, তাপ প্রবাহ এবং দাবানলের কারণে ক্রমাগত জলবায়ু জরুরি অবস্থার সম্ভাবনার মুখোমুখি হই। এটি “জলবায়ু হুইপল্যাশ (ঘন ঘন এবং দীর্ঘ স্থায়ী বন্যা ও খড়া)” দ্বারা অর্থাৎ একটি চরম আবহাওয়ার ঘটনা থেকে আরেকটি (খরা তারপর বন্যা; দাবানল এবং মুষলধারে বৃষ্টি) তীব্রতর হওয়া। যদি এরকম ঘটে তাহলে কি ক্রমাগত জরুরি অবস্থার দিকে নিয়ে যাবে যেখানে গণতন্ত্রের স্থগিতাদেশ স্থায়ী হয়ে যাবে?

ডক্টর মুহাম্মদ হিদায়াত গ্রিনফিল্ড, আইইউএফ এশিয়া/প্যাসিফিক রিজিওনাল সেক্রেটারি

জলবায়ু সংকট, জরুরি অবস্থা এবং গণতন্ত্রের অবক্ষয়

The climate crisis, emergencies, and the erosion of democracy

In many countries the military has historically used political, social and economic crises to declare emergencies, temporarily suspend democracy, and take power. Now environmental crises may also be used to justify military intervention and the deployment of armed forces. Since climate change leads to the increased intensity and frequency of extreme weather events, then we face the prospect of more frequent emergencies. This could mean that the emergency powers of the military and the temporary suspension of democracy will become more frequent too. In several countries, there is a very real risk that these continuous climate emergencies could lead to the continuous suspension of democracy and democratic rights – the same democracy and democratic rights needed to tackle the climate crisis and ensure climate justice.

When Cyclone Mocha struck the coast of Bangladesh and the western region of Myanmar on May 14, 2023, the category-five tropical storm caused the tragic loss of life and widespread devastation in Rakhine State. Most of the capital city, Sittwe, was destroyed.

It is well understood that extreme weather events like Cyclone Mocha have increased in frequency and intensity as a result of  human-induced (anthropogenic) climate change. What is less well understood is that the political context of these extreme weather events has a profound impact on the extent of the death, destruction and displacement caused.

The Women’s Peace Network , which has courageously reported on brutal repression and human rights violations in Myanmar, held an emergency briefing on May 16 that assessed the impact of Cyclone Mocha. The briefing observed the ways in which the military junta used the cyclone to further its political repression:

Reports on the junta’s response to Cyclone Mocha have begun to surface, revealing that the junta sabotaged evacuation efforts of the Rohingya IDPs [internally displaced persons] and has since blocked aid access to their camps and surrounding areas. Such findings, among many others, are in line with the junta’s acts to further entrench the apartheid in Rakhine State following its February 1, 2021 attempted coup.

Described as “convenient negligence”, the devastating impact of Cyclone Mocha on Rakhine State and Rohingya refugee camps in Bangladesh recalls their forced displacement from Myanmar in the the genocide perpetrated by the military in 2017, which the UN Human Rights Council recognized as crimes against humanity.

It is here that we see the convergence of climate vulnerability and the vulnerability of populations living under military rule. This vulnerability is magnified by the systemic political persecution and acts of genocide perpetrated against specific ethnic groups. Not only do people suffer the loss of life, destruction of their homes, deprivation and displacement, but the possibility of preparing themselves or taking collective action to protect their communities is severely constrained.

In the humanitarian crises following extreme weather events such as cyclones, we often see international aid organizations justify the necessity of working with military regimes. In fact, some relief agencies appear to believe that centralized authoritarian regimes are a more efficient delivery mechanism for aid. This neglects the fact that authoritarian regimes are massively corrupt, and public resources – including humanitarian aid – are diverted through the powerful elite and their cronies. The theft of public resources is one of the key reasons why such regimes exist in the first place.

More importantly, under authoritarian regimes, humanitarian crises and humanitarian aid are politically determined. Populations identified as hostile to the state and/or specific ethnic or religious groups are denied access to humanitarian aid. As we see in Myanmar today, the military junta’s war on civilian populations extends to the denial of humanitarian assistance. The reason for this is not complex. To be a victim of a humanitarian crisis and be eligible for humanitarian aid, you must first be considered human.

Since 1945 we have witnessed the beginning of the end of democracy in several countries (often backed by foreign intervention) where states of emergency are declared at national or sub-national level (state, region, province) and the military are deployed on the streets. Once the troops are out of the barracks, the military generals and their children move swiftly into political, civilian and economic life.

Even if the powers of an elected parliament or congress are restored, and democratic elections resume, the military retain control of political parties and maintain their foothold in political, civilian and economic life. For the people this becomes a perpetual state of emergency – a permanent crisis.

In this continuous crisis “climate resilience” is also redefined. Climate resilience involves a collective responsibility to ensure equitable social, economic and cultural responses to the effects of climate change, and ensuring that human health, livelihoods and the environment are protected. Now calls by political elites for greater climate resilience in our communities means that we must simply face the next extreme weather event. Stripped of democratic mechanisms for collective action and accountability, and in the absence of rights, climate resilience means vulnerable communities are simply expected to endure. Or move.

In several countries, the far right has already shifted from climate denial to climate panic. They see a political opportunity to expose state failure to support affected communities (especially climate vulnerable rural communities). In the face of this new crisis the far right can repeat its call for strong leadership – a populist term for authoritarian rule. Like every emergency in response to an external threat to the nation, the climate crisis will be used by the far right to justify the suspension of democracy.

In this cascading climate crisis we face the prospect of continuous climate emergencies due to extreme weather events, heat waves and wildfires. This is intensified by “climate whiplash” from one extreme weather event to another (drought followed by flooding; wildfires followed by torrential rains). What if this then leads to a continuous state of emergency in which the suspension of democracy becomes permanent?

Dr Muhammad Hidayat Greenfield, IUF Asia/Pacific Regional Secretary

RSPO “mixed”? may contain forced labour, environmental destruction (we don’t know)

RSPO “mixed”? may contain forced labour, environmental destruction (we don’t know)

Anyone trying to buy products that are environmentally and socially sustainable and not harmful to human rights or the environment faces an immense challenge. Not only are more and more environmental and human rights groups turning certification labelling into a profitable business (more business than protection), their claims seem less and less credible. Deforestation and biodiversity loss continues at an alarming rate, while child labour and forced labour continues to be widespread, with no sign of declining. What is declining is people’s confidence in large multinational corporations with extensive global supply chains being able to live up to their sustainability claims.

Underpinning the gap between these claims and the reality is the issue of traceability. Companies must know exactly where each and every ingredient came from, the impact of how it was grown, raised, caught and/or produced, how it travelled through the supply chain and under what environmental and social conditions, to end up in the final product. Only through traceability can they know. And they don’t know. One reason is that the responsibility of monitoring and reporting is outsourced to third-party certification agencies, foundations and organizations, including NGOs, who are effectively paid to police themselves.

Block chain is presented as the technological answer. But block chain only ensures no one can tamper with information inputted along the way. So if the information inputted (by humans) is unreliable, then block chain preserves the integrity of the lie. It cannot be tampered with.

Another reason traceability is problematic is that there are grey areas where it is unclear where the ingredient or produce came from. In fisheries this includes distant water fishing (DWF) fleets mixing the catch at sea and deliberately mislabeling the point of origin. Or seafood companies semi-processing in informal peeling sheds before bringing the product into their factories. In agriculture, sugar, tobacco, and palm oil are not sourced from identifiable farms or fields, but are presented by buyers and “middle-men” as a single crop. Or under coffee and cacao certification the certification bodies allow the misuse of farmers’ names and farm locations to claim that it meets all the requirements. And farmers still don’t get the promised premium.

This is clearly demonstrated by the “mixed” trademark of the Roundtable on Sustainable Palm Oil (RSPO). The “mixed” certification label means that RSPO certified the palm oil used in the product under its Mass Balance supply chain approach. Mass Balance means that palm oil made from palm kernel harvested in plantations certified as free from deforestation, environmental destruction, and human rights abuses is mixed with palm kernel from plantations not certified as free from deforestation, environmental destruction, and human rights. So “on balance” RSPO and its corporate customers hope it turns out okay in terms of the environment and human rights.

We could liken it to the warning of possible allergens in packaged food labelling: “this product may contain traces of nuts”. This usually means food products containing nuts were manufactured on the same line, so traces may have ended up in the current food product. So what this really means is: we don’t know, there could be traces of nuts, so be careful. It’s precautionary. What the RSPO “mixed” labeling means is: we don’t know, and we won’t find out. It’s irresponsible.

The distinction between palm oil and palm kernel is significant. Most people (as informed consumers) believe that sustainable palm oil and 100% traceability concerns the palm oil plantations themselves. This is logical since deforestation, habitat destruction, biodiversity loss, greenhouse gas emissions from destruction of forests and peatland, forced labour, child labour, excessive pesticide use, land grabbing and displacement of indigenous peoples all occur on or around plantations. But within the industry palm oil is the product of palm oil refineries and traceability refers only to the ability to track palm oil shipments to the refinery itself. It is not traceable to the plantations.This allows a crucial grey area of flexibility. Companies can include palm kernel within the cope of sustainability if they have good examples to promote, and exclude it when forests are burning or human rights are violated. Like “mixed”, the interchangeable use of palm oil and palm kernel allows a very flexible use of traceability, which in turns allows deniability.

The “mixed” RSPO label means that you are consuming a product that was made with some sustainable palm oil, and some unsustainable palm oil. There might be some deforestation and and rights abuse mixed in there, RSPO doesn’t know. But why doesn’t RSPO know? The reason is that there is still no system for monitoring and control to ensure compliance. This is partly because the entire system of regulation, monitoring and enforcement is privatized and financed by the companies using the RSPO certification labels.

As long as private industry certification organizations can monopolize a commodity or industry, they can limit the choices people make. In the case of the Maldives, union members of BKMU fish tuna sustainably with single pole lines with no by-catch, no harm to other species and no nets causing damage to the environment. But the distant water fishing (DWF) fleets backed by their own governments and the certification bodies can denounce tuna caught sustainably in the Maldives by unionized fishers, force it off the supermarket shelves in Europe, and replace it with marine species caught through destructive drift net fishing. There is no discussion of traceability when it comes to massive DWF trawlers killing a multitude of other marine species, destroying coral reefs and ocean habitats, and using abusive labour practices, including forced labour. It still ends up in supermarkets as sustainable, because the certification bodies, their “alliances” and corporate-backed NGOs say it is.

The only way for people to be certain that the products they consume aren’t linked to environmental destruction or human rights violations (and therefore really have a choice) is to ensure that the environment and human rights are protected. Palm oil companies and their buyers must stop lobbying against stricter environmental, labour and human rights legislation. They must stop undermining the efforts to protect the rights of rural communities and indigenous peoples – especially with regard to land rights. Palm oil companies and their buyers must stop the aggressive repression of trade union rights and guarantee all workers – especially migrant workers – have full and unconditional access to the right to freedom of association and collective bargaining. Rural communities, indigenous peoples, marginal farmers and workers must be self-organized, collectively represented, and be able to protect their rights and interests. Only then can we ensure the protection of the environment and human rights that people want and expect from the products they consume. There are no mixed messages in that.

সামাজিক ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতিই জলবায়ু সংকটকে জলবায়ু বিপর্যয়ে পরিণত করেছে

সামাজিক ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতিই জলবায়ু সংকটকে জলবায়ু বিপর্যয়ে পরিণত করেছে

আমরা যে বিপর্যয়কর জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে প্রবেশ করছি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল এবং বন্যার তীব্রতা এবং পৌনঃপুনিকতা বাড়ছে। আগস্টে পাকিস্তান জুড়ে ব্যাপক বন্যায় ১০০০ জনেরও বেশি মৃত্যুসহ ৩০ মিলিয়ন মানুষকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বন্যাকে “জলবায়ু বিপর্যয়” বলে বর্ণনা করেছেন। স্পষ্টতই, কয়েক দশক ধরে সরকার কর্তৃক অস্বীকার, বিলম্ব এবং বিভ্রান্তির পর মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই বন্যা বিপর্যয়ের যে কোনও সরকারী স্বীকৃতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে। যাইহোক, বিপর্যয়কর জলবায়ু পরিবর্তন [ জলবায়ু সংকট ] এর প্রমাণ হিসাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনার বর্ধিত তীব্রতা এবং পৌনঃপুনিকতা স্বীকার করা এবং জলবায়ু বিপর্যয় ঘোষণা করার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

এই সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় জনসেবা ও ইউটিলিটি, অবকাঠামো, আবাসন এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রদানে কয়েক দশক ধরে সরকারের ব্যর্থতার কারণে ৩০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারাত্মক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত বা গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সর্বজনীনভাবে অর্থায়নকৃত ফিজিক্যাল সুরক্ষার অনুপস্থিতি (সংরক্ষিত বন ও ম্যানগ্রোভ, ভূমি ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ, পাথরের বাঁধ, প্রাকৃতিক বাঁধ, খাল, সরকারি আবাসন এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, পানীয় জলের প্রবেশাধিকার) এবং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার অভাব – বিশেষ করে নারীদের, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য – এই বন্যা ট্র্যাজেডিতে পরিণত করেছে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিয়োজন, প্রান্তিককরণ এবং অবহেলা সেইসব দেশে সাধারণ ব্যাপার যেখানে সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, পানির উপযোগীতা এবং পাবলিক অবকাঠামোতে সরকারি ব্যয় কমিয়েছে। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে নারী এবং আদিবাসী/প্রথম নৃগোষ্ঠীর মানুষদের আরও বেশি প্রান্তিকতা রয়েছে। যারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অধিকার বঞ্চিত এবং প্রান্তিক তারা চরম আবহাওয়ার ঘটনার সবচেয়ে খারাপ প্রভাব অনুভব করে। পর্যাপ্ত বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, পানি এবং স্যানিটেশন এবং পুষ্টির [যা সবই সার্বজনীন মানবাধিকার] প্রবেশাধিকারের অভাবের কারণে ইতিমধ্যেই যারা স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভুগছে, তাদের জন্য চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির প্রভাব ধ্বংসাত্মক। অধিকারের বঞ্চনা এই জলবায়ু সংকটকে বিশ্বজুড়ে কয়েক মিলিয়ন মানুষের জন্য জলবায়ু বিপর্যযয়ে পরিনত করেছে।

চার দশকেরও বেশি আগে বিপর্যয়কর জলবায়ু পরিবর্তন এড়াতে জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের কার্বন নিঃসরণ কমানোর জরুরি প্রয়োজন উপলব্ধি করা হয়েছিল। [ ১৯৭৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ফ্র্যাঙ্ক প্রেসের স্মারকের শিরোনামটি পরিষ্কার হতে পারেনি: “ফসিল CO2 নিঃসরণ এবং একটি বিপর্যয়কর জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাবনা।”] কিন্তু কার্বন নিঃসরণ কমানোর এবং জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের রাজত্ব কমানোর এই আহ্বানটি থ্যাচার এবং রিগ্যানের সরকারী ব্যয় এবং সামাজিক অবকাঠামো, পাবলিক পণ্য ও পরিষেবার উপর নয়া উদারনীতিবাদ আক্রমণের আবির্ভাবের সাথে মিলে যায় এবং – সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ – আমাদের যৌথ সামাজিক মূল্যবোধ সাথে মিলে যায়। সারা বিশ্বে অনুকরণ করা হয়েছে – বেশ কয়েকটি সামাজিক গণতান্ত্রিক এবং শ্রমিক বান্ধব সরকার সহ – গত ৪৫ বছরে নয়া উদারনীতিবাদ শুধুমাত্র আমাদের গ্রহ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সরকারের ক্ষমতাকে হ্রাস করেনি, এটি পদ্ধতিগতভাবে জনসাধারণের সামাজিক অবকাঠামোর জন্য আমাদের অধিকারগুলিকে ভেঙে দিয়েছে যা আমাদের এখন খুবই প্রয়োজন। হাসপাতাল, আবাসন, শিক্ষা, বিদ্যুৎ এবং পানির ইউটিলিটিগুলিকে এমন ভাবে বেসরকারীকরণ করা হয়েছে যা প্রায় সবকিছুকে লাভের জন্য কেনা এবং বিক্রি করা পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পানীয় জলের প্রবেশাধিকার – একটি মৌলিক মানবাধিকার।

তাপ প্রবাহ, দাবানল, বন্যা, খরা এবং অন্যান্য বৈরী আবহাওয়ার ঘটনাগুলির বর্ধিত তীব্রতা এবং পুনঃপৌনিকতা আমাদের মৌলিক মানবাধিকার এবং সামষ্টিক সামাজিক মূল্যবোধগুলি পুনরুদ্ধার করার জন্য নতুন করে আহ্বান জানিয়েছে যা সেই অধিকারগুলিকে অর্থবহ করে। বিনামূল্যে জনসাধারণের পণ্য এবং পরিষেবা, ইউটিলিটি, অবকাঠামো – সর্বজনীনভাবে অর্থায়ন করা ফিজিক্যাল এবং সামাজিক সুরক্ষা – যা গ্রামীণ এবং কৃষি সম্প্রদায়ের জরুরী প্রয়োজন। এটি বিশেষ করে নারী, শিশু, অভিবাসী এবং আদিবাসী/প্রথম নৃগোষ্ঠী জনগণের জন্যও জরুরী প্রয়োজন।

এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই একই প্রান্তিক এবং অবহেলিত গ্রামীণ ও কৃষি সম্প্রদায়গুলিকে অবশ্যই বিশ্বকে খাওয়াতে হবে। সার্বজনীনভাবে অর্থায়ন করা ফিজিক্যাল ও সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারের সমর্থন ছাড়া, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন জনিত চরম আবহাওয়া ঘটনাগুলি ক্রমাগত খাদ্য সঙ্কট তৈরি করবে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী আরও বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেবে।

মৌলিকভাবে এটি জলবায়ু সংকটের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আমাদের গ্রহের স্বাস্থ্য রক্ষা করার বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া। এটি জলবায়ু ন্যায়বিচার হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। আমাদের ২০০৮ সালে স্বাস্থ্যের সামাজিক নির্ধারক সম্পর্কিত WHO কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুরুর লাইনটি স্মরণ করা উচিত: “সামাজিক ন্যায়বিচার জীবন ও মৃত্যুর বিষয়।” প্রকৃতপক্ষে, এই জলবায়ু সংকটে, জলবায়ু ন্যায়বিচার জীবন-মৃত্যুর বিষয়।

হিদায়াত গ্রিনফিল্ড, রিজিওনাল সেক্রেটারি

আইইউএফ-অধিভুক্ত সিন্ধু নারী শ্রমিক পরিষদ এসএনপিসি যাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং যাদের ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে তাদের সহায়তা প্রদান করে। এটি সম্মিলিত সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংহতি, সমবেদনা এবং দায়িত্ববোধের প্রতিফলিত করে যা আমাদের অবশ্যই পুনরুদ্ধার করতে হবে।

এই জলবায়ু সংকটে মানবাধিকারের গুরুত্বটি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের মানবাধিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রস্তাবে স্বীকৃত হয়েছে [জুলাই ১৪, ২০২১]:

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে লোকজনের মুখোমুখি হওয়া বিশেষ চ্যালেঞ্জগুলির উপর জোর দেওয়া, যার মধ্যে রয়েছে অসুখের প্রতি তাদের বর্ধিত সংবেদনশীলতা, তাপমাত্রা সম্পর্কিত অবসাদগ্রস্থতা, পানির ঘাটতি, গতিশীলতা হ্রাস, সামাজিক বর্জন এবং শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক সহনশীলতা হ্রাস, সেইসাথে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদার সমাধান করতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং জরুরী পরিস্থিতি এবং স্থানান্তর, জরুরী  মানবিক প্রতিক্রিয়া এবং যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার জন্য দুর্যোগ মোকাবেলার পরিকল্পনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জনগণের মানবাধিকার এবং তাদের জীবিকা, খাদ্য ও পুষ্টি, নিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য-পরিচর্যা পরিষেবা এবং ওষুধ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত আবাসন এবং শোভন কাজের জন্য তাদের প্রবেশাধিকার আরও ভালভাবে নিশ্চিত করার জন্য সবুজ জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এবং পরিষেবাগুলিকে জরুরি এবং মানবিক প্রেক্ষাপটে অভিযোজিত করা যায় তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রগুলির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতিই জলবায়ু সংকটকে জলবায়ু বিপর্যয়ে পরিণত করেছে

सामाजिक न्याय का अभाव ही जलवायु संकट को जलवायु आपदा में बदल देता है

इसमें कोई संदेह नहीं है कि हम विनाशकारी जलवायु परिवर्तन के युग में प्रवेश कर रहे हैं। दुनिया भर में गर्मी की लहरें, सूखा, झाड़ियों की आग और बाढ़ की तीव्रता और आवृत्ति में वृद्धि हो रही है। अगस्त में पूरे पाकिस्तान में भारी बाढ़ ने 30 मिलियन लोगों को बुरी तरह प्रभावित किया, जिसमें 1,000 से अधिक लोगों की मौत हो गई। सरकार के मंत्रियों और सांसदों ने बाढ़ को “जलवायु आपदा” के रूप में वर्णित किया। स्पष्ट रूप से, इस बाढ़ आपदा की किसी भी आधिकारिक मान्यता के रूप में इसकी उत्पत्ति मानव-प्रेरित जलवायु परिवर्तन में हुई है, सरकारों द्वारा दशकों से इनकार, देरी और अस्पष्टता के बाद महत्वपूर्ण प्रगति का प्रतिनिधित्व करती है। हालांकि, विनाशकारी जलवायु परिवर्तन [जलवायु संकट] के प्रमाण के रूप में ख़राब मौसम की घटनाओं की बढ़ी हुई तीव्रता और आवृत्ति को पहचानने और जलवायु आपदा घोषित करने के बीच एक महत्वपूर्ण अंतर है।

30 मिलियन से अधिक लोग भीषण बाढ़ से प्रभावित हुए थे और लाखों विस्थापित या बेघर रहते हैं इस संकट का सामना करने के लिए आवश्यक सार्वजनिक सेवाओं और उपयोगिताओं, बुनियादी ढांचे, आवास और सामाजिक सुरक्षा प्रदान करने में दशकों की सरकार की विफलता के कारण। यह सार्वजनिक रूप से वित्तपोषित भौतिक संरक्षण (संरक्षित वन और मैंग्रोव, भूमि और मिट्टी संरक्षण, बांध, नालियां, नहरें, सार्वजनिक आवास और किफायती आवास, पीने योग्य पेयजल) का अभाव है और सार्वभौमिक सामाजिक सुरक्षा की कमी – विशेष रूप से महिलाओं, अनौपचारिक क्षेत्र के श्रमिकों और प्रवासी श्रमिकों के लिए – जिसने इस बाढ़ को दुःखद घटना बनने दिया है।

ग्रामीण समुदायों का बहिष्कार, हाशिए पर और उपेक्षा उन देशों में आम है जहां सरकारों ने स्वास्थ्य देखभाल, जल उपयोगिताओं और छोटे पैमाने पर और सीमांत किसानों और मछुआरों को समर्थन देने के लिए आवश्यक सार्वजनिक बुनियादी ढांचे पर सार्वजनिक खर्च में कटौती की है। इन समुदायों के भीतर महिलाओं और स्वदेशी/प्रथम राष्ट्र के लोगों का और भी अधिक उपेक्षा पर है। जो लोग व्यवस्था रूप से अधिकारों से वंचित हैं और हाशिए पर हैं वे ख़राब मौसम की घटनाओं के सबसे बुरे प्रभावों का अनुभव करते हैं। पर्याप्त आवास, स्वास्थ्य देखभाल, पानी और स्वच्छता, और पोषण [जो सभी सार्वभौमिक मानवाधिकार हैं] तक पहुंच की कमी के कारण पहले से ही खराब स्वास्थ्य से पीड़ित, ख़राब मौसम की घटनाओं का हमला विनाशकारी है। यह अधिकारों का अभाव है जो इस जलवायु संकट को दुनिया भर के करोड़ों लोगों के लिए एक जलवायु आपदा बना देता है।

भयावह जलवायु परिवर्तन को टालने के लिए जीवाश्म ईंधन उद्योग द्वारा कार्बन उत्सर्जन में कटौती की तत्काल आवश्यकता को चार दशक से अधिक समय पहले समझा गया था। [1977 में अमेरिकी राष्ट्रपति जिमी कार्टर के मुख्य वैज्ञानिक सलाहकार, फ्रैंक प्रेस के ज्ञापन का शीर्षक से जादा स्पष्ट नहीं कर सकते: “जीवाश्म CO2 की रिहाई और एक भयावह जलवायु परिवर्तन की संभावना।”]  लेकिन कार्बन उत्सर्जन में कटौती और जीवाश्म ईंधन उद्योग में शासन करने का यह आह्वान सरकारी खर्च और सामाजिक बुनियादी ढांचे, सार्वजनिक वस्तुओं और सेवाओं पर थैचर और रीगन के नवउदारवादी हमले के आगमन के साथ हुआ, और – सबसे महत्वपूर्ण – हमारे सामूहिक सामाजिक मूल्य। दुनिया भर में दोहराया गया – जिसमें कई सामाजिक लोकतांत्रिक और श्रमिक सरकारें शामिल हैं – नवउदारवाद ने पिछले 45 वर्षों में न केवल ग्रह और सार्वजनिक स्वास्थ्य की रक्षा करने के लिए सरकारों की क्षमता को कम किया है। इसने सार्वजनिक सामाजिक बुनियादी ढांचे के हमारे अधिकारों को व्यवस्थित रूप से नष्ट कर दिया है जिसकी हमें अभी सख्त जरूरत है। अस्पतालों, आवास, शिक्षा, बिजली और पानी की उपयोगिताओं का निजीकरण कर दिया गया क्योंकि लगभग हर चीज लाभ के लिए खरीदी और बेची जाने वाली वस्तु बन गई। इसमें पीने योग्य पेयजल तक शामिल है – एक मौलिक मानव अधिकार।

गर्मी की लहरों, जंगल की आग, बाढ़, सूखा और अन्य ख़राब मौसम की घटनाओं की बढ़ती तीव्रता और आवृत्ति ने हमारे मौलिक मानवाधिकारों और सामूहिक सामाजिक मूल्यों को बहाल करने के लिए नए सिरे से आह्वान किया है जो उन अधिकारों को अर्थ देते हैं। सार्वजनिक वस्तुओं और सेवाओं, उपयोगिताओं, बुनियादी ढांचे तक पहुंच – सार्वजनिक रूप से वित्तपोषित भौतिक और सामाजिक सुरक्षा – जिसकी ग्रामीण और कृषि समुदायों को तत्काल आवश्यकता है। यह विशेष रूप से महिलाओं, बच्चों, प्रवासियों और स्वदेशी/प्रथम राष्ट्र के लोगों के लिए है।

यह और भी महत्वपूर्ण है क्योंकि इन्हीं हाशिए पर पड़े और उपेक्षित ग्रामीण और कृषि समुदायों को दुनिया का भरण-पोषण करना चाहिए। सार्वजनिक रूप से वित्तपोषित भौतिक और सामाजिक सुरक्षा और सरकारों के समर्थन के बिना, मानव-प्रेरित जलवायु परिवर्तन से प्रेरित चरम मौसम की घटनाएं निरंतर खाद्य संकट उत्पन्न करेंगी, जिससे वैश्विक खाद्य असुरक्षा और भी अधिक हो जाएगी।

मूल रूप से यह सामाजिक न्याय को जलवायु संकट के प्रति हमारी प्रतिक्रिया के केंद्र में रखने और ग्रहों के स्वास्थ्य की रक्षा करने के बारे में है। इसे मोटे तौर पर जलवायु न्याय के रूप में समझा जाता है. हमें 2008 में स्वास्थ्य के सामाजिक निर्धारकों पर WHO आयोग की रिपोर्ट की शुरुआती पंक्ति को याद करना चाहिए:सामाजिक न्याय जीवन और मृत्यु का मामला है।दरअसल, इस जलवायु संकट में, जलवायु न्याय जीवन और मृत्यु का मामला है।

हिदायत ग्रीनफील्ड, क्षेत्रीय सचिव

IUF-संबद्ध सिंध महिला श्रमिक परिषद एसएनपीसी उन महिलाओं को सहायता प्रदान करती है जिन्होंने अपना घर खो दिया है और जिनके खेतों में पानी भर गया है। यह सामूहिक सामाजिक मूल्यों और एकजुटता, करुणा और देखभाल की कार्रवाई को दर्शाता है जिसे हमें बहाल करना चाहिए।

 

इस जलवायु संकट में मानवाधिकारों के महत्व को मानवाधिकार और जलवायु परिवर्तन पर संयुक्त राष्ट्र मानवाधिकार परिषद के प्रस्ताव [14 जुलाई, 2021] में मान्यता दी गई है:

जलवायु परिवर्तन से उत्पन्न संवेदनशील स्थितियों में लोगों द्वारा सामना की जाने वाली विशेष चुनौतियों पर बल देना, जिसमें बीमारियों के प्रति उनकी संवेदनशीलता में वृद्धि, गर्मी का तनाव, पानी की कमी, गतिशीलता में कमी, सामाजिक बहिष्कार और कम शारीरिक, भावनात्मक और वित्तीय लचीलापन, साथ ही उपायों की आवश्यकता शामिल है। उनकी विशिष्ट जरूरतों को पूरा करने और आपातकालीन स्थितियों और निकासी, मानवीय आपातकालीन प्रतिक्रिया, और स्वास्थ्य देखभाल सेवाओं के लिए आपदा प्रतिक्रिया योजना में उनकी भागीदारी सुनिश्चित करने के लिए, जैसा उपयुक्त हो!

इसके अलावा राज्यों से कमजोर परिस्थितियों में लोगों के मानवाधिकारों को बेहतर ढंग से बढ़ावा देने और आजीविका, भोजन और पोषण, सुरक्षित पेयजल और स्वच्छता, सामाजिक सुरक्षा, स्वास्थ्य देखभाल सेवाओं और दवाओं, शिक्षा और प्रशिक्षण, पर्याप्त आवास और अच्छे काम तक उनकी पहुंच को बढ़ावा देने का आह्वान किया। , स्वच्छ ऊर्जा, विज्ञान और प्रौद्योगिकी, और सुनिश्चित करें कि सेवाओं को आपातकालीन और मानवीय संदर्भों के अनुकूल बनाया जा सकता है;

사회적 정의의 부재로 기후 위기가 기후 재앙으로 진화

사회적 정의의 부재로 기후 위기가 기후 재앙으로 진화

우리는 의심할 여지 없이 재앙적인 기후 변화의 시대로 접어들고 있다. 전 지구적으로 폭염, 가뭄, 산불, 홍수의 발생 강도와 횟수가 증가하고 있다. 8월에 파키스탄 전역에서 발생한 대규모 홍수는 3천만명의 사람에게 심각한 영향을 미치고 1,000명 이상의 사망자를 남겼다. 파키스탄 정부 부처 장관과 의원들은 이 홍수를 “기후 재앙”이라는 말로 표현을 했다. 이런 홍수 재난의 원인을 인간이 유발한 기후 변화로서 공식적으로 인정하는 것은 정부가 수십년 동안 재난을 기후 변화와 연관 시키는 것에 대해 거부, 지체 또는 혼란스러워 하던 것에 비하면 분명히 눈에 띄는 진전이라고 할 수도 있다. 그러나 재앙적인 기후 변화 [기후 위기]의 증거로서 극심한 기상 상황의 강도와 빈도가 증가하는 것을 인정하는 것과 기후 재앙을 선포하는 것에는 중요한 차이가 있다.

지난 수십년 동안 정부는 이러한 위기 대응에 꼭 필요한 공공 서비스와 공익 사업, 인프라, 주택, 사회 보호망 제공에 실패했다. 이 때문에 3천만명 이상의 사람들이 심각한 홍수로 피해를 봤으며 수백만의 사람이 거처를 잃어 버려 이재민 또는 홈리스로 전락해 버리고 말았다. 공적 재원을 바탕으로 한 물리적인 보호 조치 부재와 보편적인 사회 보장망의 부족으로 인해, 특히 여성, 비공식 분야 노동자, 이주 노동자들은 이런 홍수가 재난으로 바뀌는 현실을 겪어야만 했다.

소규모의 소외된 농민과 어민 지원에 꼭 필요한 헬스 케어, 수도 공급, 공공 인프라에 대한 공공 지출을 삭감하는 정부에서는 농어촌 커뮤니티를 배제, 따돌림, 무시하는 경향이 일반적으로 발생하고 있다. 이런 커뮤니티 안에서는 여성, 원주민/선주민의 소외가 더 심각하게 나타난다. 바로 이들이 제도적으로 권리를 부정당하고 가장 극심한 기상 상황의 영향을 경험하며 소외되는 사람들이다. 이미 [보편적 인권과 관련된] 적절한 주택, 헬스 케어, 식수와 위생, 영양 등에 접근 부재로 인해 심각한 건강 문제를 겪고 있는 가운데 엄청난 기상 이변의 많은 사건들이 심화되고 있다. 이렇게 기후 위기가 기후 재앙으로 진화함에 따라 전세계 수천만 사람들의 인권이 압살되고 있다.

재앙적인 기후 변화를 피하기 위한 화석 연료 산업에서 발생하는 탄소 배출 감소에 대한 긴급한 필요성이 지난 40여년 전에도 인정됐었다. [지미 카터 전 미국 대통령의 수석 과학 보좌관이었던 프랭크 프레스의 1977년 메모 표제는 다음의 내용을 매우 분명히 하고 있다: “화석 연료 이산화탄소의 배출과 재앙적인 기후 변화의 가능성”] 그러나 탄소 배출을 줄이고 화석 연료 산업에 통제를 요청하는 이러한 필요성은 대처 전 총리와 레이건 전 대통령의 정부 지출과 사회 인프라, 공공재와 서비스, 그리고 그 중에서 가장 중요한 우리의 집단적 사회 가치에 대한 신자유주의 공격의 출현과 동시에 발생 했었다. 몇몇 사회 민주주의 정부 그리고 노동당 정부를 포함해 전세계에 복제된 신자유주의는 지난 45년 동안 지구를 구하고 공공 보건을 보호하는 정부의 역량을 약화시켰다. 뿐만 아니라 현재 우리에게 절실하게 필요한 공공 사회 인프라에 대한 우리의 권리를 조직적으로 해체시켜 왔다. 모든 것들이 이익을 위해 사고 팔렸던 상품이 되었던 것처럼 병원, 주택, 교육, 전기와 수도 시설은 민영화 되었다. 여기에는 인권의 가장 기본적인 내용인 음용 가능한 식수에 대한 접근권도 포함된다.

폭염, 산불, 홍수, 가뭄, 기타 극심한 기상 이변 사건의 강도와 주기가 증가함에 따라서, 우리의 근본적인 인권과 이러한 권리에 의미를 부여하는 집단적인 사회적 가치의 재생을 위한 노력이 새롭게 요청되고 있다. 무상의 공공재와 서비스, 기본 시설, 인프라 – 공공의 재정이 투여된 물리적, 사회적 보호망 – 에 대한 접근은 농어촌 커뮤니티에서 시급하게 필요로 하는 것들이다. 이는 특히 여성, 아동, 이주민, 원주민/선주민을 위해 더 필요하다.

이런 내용이 더욱 중요한 이유는 이와 같이 소외 받고 무시 당하는 농어촌 커뮤니티가 지구에 먹거리를 공급해야 하기 때문이다. 공적 재정으로 뒷받침 된 물리적, 사회적 보호망과 정부의 지원이 없다면, 인간이 만들어낸 기후 변화에 의해 촉발된 극심한 기상 이변 사건은 지속적으로 식량 위기를 만들어 낼 것이며, 이는 더 심한 글로벌 식량 불안정으로 이어지게 될 것이다.

기본적으로 이는 기후 위기에 대응하고 지구의 건강을 지키는 데 있어 사회적 정의를 그 중심에 놓는 것이다. 이는 기후 정의로서 광범위하게 이해되고 있다. 우리는 2008년 WHO 건강의 사회적 결정 요인 위원회 (WHO Commission on Social Determinants of Health)의 최종 보고서 첫 줄의 내용인 – “사회 정의는 삶과 죽음의 문제이다” – 라는 구절을 되새겨야 한다. 정말로 이런 기후 위기 속에서 기후 정의는 삶과 죽음의 문제이다.

 

IUF 자매 조직인 인디 여성 노동자 위원회(SNPC)에서 홍수로 인해 집과 농토를 잃어버린 여성들에게 구호품을 제공하고 있다. 이는 우리가 회복해야 하는 집단적인 사회적 가치, 연대의 행동, 공감, 돌봄의 정신을 반영하고 있다.