Poster: Secure jobs for young workers! International Youth Day 2025

Poster: Secure jobs for young workers! International Youth Day 2025

 

Bahasa Indonesia

বাংলা Bengali

English

日本語 Japanese

ဗမာဘာသာစကား Myanmar

ภาษาไทย Thai

اردو Urdu

हिन्दी Hindi

International Women’s Day 2025 Posters in 19 Languages

International Women’s Day 2025 Posters in 19 Languages

অসমীয়া Assamese

Bahasa Indonesia

বাংলা Bengali

繁體字 Chinese 

ދިވެހ Divehi

English

ગુજરાતી Gujarati 

हिन्दी Hindi

日本語 Japanese

ភាសាខ្មែរ Khmer

मराठी Marathi 

ဗမာဘာသာစကား Myanmar

नेपाली Nepali

سندھی Sindhi

සිංහල භාෂාව Sinhala

Tagalog

 

தமிழ் Tamil

ภาษาไทย Thai

اردو Urdu

২৮ এপ্রিল: অজানা শ্রমিকদের স্মরণ

২৮ এপ্রিল: অজানা শ্রমিকদের স্মরণ

নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশের আহ্বান, শীর্ষক নভেম্বর ২০২৩ এ আইএলও’র রিপোর্টে, প্রতিয়মান হয়েছে যে:

২০১৯ সালের কভার করা ILO কর্তৃক প্রণীত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ৩৯.কোটিরও বেশি শ্রমিক মারাত্মক নয় এমন কাজ সংশ্লিষ্ট আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। উপরন্তু, প্রায় ২০.৯৩ লক্ষ শ্রমিক কাজ সম্পর্কিত দুর্ঘটনার ফলে মৃত্যুবরণ করেছে, যা ২০০০ এর তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি।

শ্রমিকরা যে ক্রমাগত গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, অসুস্থ্য হওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে নিহত হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন এই পরিসংখ্যানগুলি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুস্মারক। ILO কনভেনশন নং ১৫৫-এ গ্যারান্টিকৃত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার অধিকারগুলিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে তা নিশ্চিত করে এটি শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জরুরি আহ্বানকে যুক্ত করেছে।

কাজ সম্পর্কিত আঘাত, অসুস্থতা, রোগ এবং মৃত্যুর সামগ্রিক সংখ্যা কেবলমাত্র অনুমান করা যেতে পারে কারণ আইএলও কর্তৃক সংকলিত ডেটা ততটাই ভালো কেবলমাত্র জাতীয় তথ্য যতটা পর্যাপ্ত হয়। তথ্যগুলি প্রস্তুত করার জন্য অনুসন্ধান, রিপোর্টিং এবং প্রয়োগকারী পদ্ধতি যত ভালো এই তথ্য ততটাই ভালো। প্রত্যেক শ্রমিক যে কাজের কারণে বা কাজের দ্বারা মারাত্মক হওয়া দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় মারা যায় – কখনও কখনও অবসর গ্রহণের কয়েক বছর পর – তাদের মৃত্যু কাজ-সম্পর্কিত মৃত্যু হিসাবে রেকর্ড করা হয় না। অজানা শ্রমিকের অজানা মৃত্যু, রেকর্ড বিহীন। প্রতিটি শ্রমিক যে একটি অজ্ঞাত শিল্প “দুর্ঘটনায়”মারা যায় সে আরেকটি অজ্ঞাত মৃত্যু। আইনগত সংজ্ঞা অনুসারে শ্রমিক হিসেবে বিবেচিত হয় না এবং কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান বহির্ভূত এমন প্রতিটি শ্রমিকের জন্য, সে নীরবে মারা যায়।

২৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক শ্রমিক স্মৃতি দিবসে শ্রমিক হত্যা বন্ধ করার জন্য আমাদের অব্যাহত আহ্বানে, আমাদের সেই শ্রমিকদেরও স্মরণে রাখতে হবে যাদের আঘাত এবং মৃত্যু শনাক্ত করা যায় না বা রেকর্ড করা হয় না কারণ তারা ফাঁকফোকর দিয়ে বাদ পড়ে যায়।

প্রায়ই বিভাগীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক তথ্যের ফাঁকফোকর প্রাতিষ্ঠানিক হয় – প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, মানদন্ডের অভাব এবং আইনি সংজ্ঞা এবং বিধিমালার বিশাল পার্থক্যের কারণে। তবে কাজের সাথে সম্পর্কিত আঘাত, অসুস্থতা, রোগ এবং মৃত্যুর তথ্যের ফাঁকফোকরগুলি রাজনৈতিক। অনুসন্ধান, মনিটরিং এবং তথ্য তৈরি করে এমন প্রতিবেদনের জন্য সরকারী সংস্থান এবং তহবিলের অভাব দারিদ্র্য বা অনুন্নয়ন বা সমন্বয়ের অভাবের কারণে নয়। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল যা শ্রমিকদের জীবনের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়, তাদের নীতির স্পেকট্রামের সর্বনিম্ন এবং জাতীয় বাজেটের প্রান্তিকে ঠেলে দেয়। কঠোরতা (কৃচ্ছতা সাধন) শুধুমাত্র শ্রমিকদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে না, কিন্তু স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং প্রাণ হারানোর রিপোর্টিং প্রতিরোধ করে।

ব্যক্তিগত শিল্পে – বৈশ্বিক কোম্পানিগুলির কর্মক্ষেত্র সহ – “সেফটি ফার্স্ট” এবং “জিরো অ্যাক্সিডেন্ট” জীবন বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি বলে মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি আর্থিক লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে; একটি মূল কর্মক্ষমতা সূচক (KPI)। লক্ষ্য পূরণের জন্য বোনাস এবং পুরষ্কারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের নিশ্চয়তা দিতে স্থানীয় ম্যানেজমেন্ট অনুপ্রাণিত করার পরিবর্তে, এটি অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্ট না করার জন্য একটি আর্থিক প্রণোদনা হয়ে উঠেছে।

যে সময়কালে আইএলও রিপোর্টে কাজ সম্পর্কিত মৃত্যুর ১২% বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছে (২০০০-২০১৯), ঠিক সেই সময় আমরা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় কোম্পানিগুলির সাথে তিন ডজনেরও বেশি বিরোধে সরাসরি জড়িত ছিলাম যা ইচ্ছাকৃতভাবে অপর্যাপ্ত রিপোর্টিং বা রেকর্ড না করা সম্পৃক্ত। গ্যাস বিস্ফোরণ, অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক, অগ্নিকান্ড এবং অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতির পতনের ঘটনা লুকানো  কার্যকরভাবে কর্মক্ষেত্রে ট্র্যাজেডির ফলে সংঘঠিত আঘাত ও মৃত্যুর ঘটনা মুছে ফেলা।

একটি বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবসার পাকিস্তানের কার্যক্রমে, উদাহরণস্বরূপ, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা গ্যাস বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন। তাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে তাদেরকে কোম্পানির গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছিল এবং কীভাবে এটি রিপোর্ট না করা যায় তার উপায় বের করার চেষ্টা ম্যানেজমেন্ট করেছিল। চিকিৎসা গ্রহণে এই বিলম্বের কারনে একজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং অন্য একজন শ্রমিকের আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে।

পাকিস্তান ও ভারতে আরও তিনটি বৈশ্বিক খাদ্য ও পানীয় কোম্পানির প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসায় অনুরূপ বিলম্ব ঘটেছে। এই সকল ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা কোম্পানির অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের দাবি করার জন্য তাদেরকে তিরস্কার বা বরখাস্ত করা হয়েছিল। (এক ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যায়নি কারণ এটি স্টোরেজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না। অন্য একটি ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট বিবাহের মতো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছিল।) কোম্পানির অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করার যে কোনও রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে  একটি গুরুতর শিল্প দুর্ঘটনা রিপোর্ট করার দিকে পরিচালিত করে। এটি ফলস্বরূপ কেপিআই (“জিরো অ্যাক্সিডেন্ট”) পূরণের সাথে সম্পর্কযুক্ত বোনাস এবং আর্থিক পুরস্কারগুলিকে প্রভাবিত করে। সুতরাং “জিরো অ্যাক্সিডেন্ট” অর্জনের সর্বোত্তম উপায় ছিল এটির রিপোর্ট না করা, যার অর্থ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করা।

ভারতে এই বৈশ্বিক কোম্পানিগুলির অন্যতম একটি সাইটে, একটি অতিরিক্ত ওজন বহনকারী একটি ক্রেন পড়ে যায় এবং প্রায় একদল শ্রমিক নিখোঁজ হয়। শ্রম পরিদর্শকের জন্য দুর্ঘটনস্থলটি সংরক্ষণের দাবি করার জন্য ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরিবর্তে পরিদর্শক আসার আগে দুর্ঘটনস্থল পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং ঘটনার বা কাজের সময় নষ্ট সম্পর্কে কোনও রেকর্ড করা হয়নি। তিন মাস পরে প্রতিস্থাপিত ক্রেনটি পড়ে যায়, নীচের শ্রমিকদের আঘাত করে। কিন্তু এবারও কোন তদন্ত হয় নাই কারন ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি তখনও বরখাস্তকৃত ছিল। কেউ এটা রিপোর্ট করার সাহস করেনি।

একটি বৈশ্বিক পানীয় কোম্পানির একটি কারখানায় আমরা জুন ২০১৩ এ যা রিপোর্ট করেছি তার একটি উদাহরণ এখানে দেওয়া হল:

জুন সকাল ৩:৪৫ টায় বয়লার হাউসের চিমনি বয়লার হাউজ দেয়ালে ধসে পড়লে দুইজন শ্রমিক নিহত হন। বয়লার অপারেটর, কোমল চন্দেল (৫৫), এবং চিলিং অপারেটর, রবিকুমার সনি (২৬), গুরুতর আহত হন। প্লান্ট থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নর্মদা ড্রামা সেন্টার হাসপাতাল সকাল টায় পৌঁছালে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে (ম্যানেজমেন্টের হয়রানির ভয়ে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না) কোমল চন্দেল দুর্ঘটনাস্থলে মারা যান এবং রবিকুমার সনি, যিনি কখনও চেতনা ফিরে পাননি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। কোমল এক স্ত্রী এবং সন্তান রেখে গেছেন এবং রবি নভেম্বর মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল এবং তার উপর নির্ভরশীল বাবা-মা এবং ভাইবোন রয়েছে।

যে চিমনিটি ভেঙ্গে পড়েছিল তা বাধা ছিলনা এবং ঝড়ে পড়ে গিয়েছিল। এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল না। এটি একটি অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র ছিল। কোমল ও রবির মৃত্যুর ছয় মাস আগে অনিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে ম্যানেজমেন্টকে চিঠি দেয় ইউনিয়ন। ম্যানেজমেন্ট টেক্সট বার্তার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়, উৎপাদনের পিক সিজন কারণে তারা খুব ব্যস্ত থাকায় মিটিং করতে পারবে না।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পানীয় কোম্পানিগুলির মধ্যে অন্যতম কোম্পানিটি সামান্য শ্রমিকদের জীবনকে কীভাবে সম্মান করে সে সম্পর্কে কিছুটা অন্তর্দৃষ্টি পেতে, তাদের পরিবারকে দেওয়া চিঠিগুলি যথেষ্ট উল্লেখ যোগ্য। বৃহস্পতিবার ৭ জুন, ২০১৩ সকাল ৫ টায় কোমল ও রবিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একই দিন বিকেলে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের চেক সংযুক্ত করে চিঠি দেয়। একই চিঠিতে কর্মক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির জায়গায় পরিবারের একজন সদস্যকে পাঠানোর জন্য পরিবারকে আমন্ত্রণ জানায়।

যে দুইজন শ্রমিক মারা গেছে – কোমল এবং রবি – তাদের নাম জানা গিয়েছে কারণ ইউনিয়ন এই ট্র্যাজেডির কথা জানিয়েছে এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছে। ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া হাজার হাজার কর্মক্ষেত্রে (বা ম্যানেজমেন্টের পকেটের দুর্নীতিগ্রস্ত ইউনিয়ন দ্বারা দমন করা) মৃত এবং আহতদের লিপিবদ্ধ নাম কখনই দেখতে পাবে না। অজ্ঞাত এই শ্রমিকদের মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু এটি শ্রমিকরা যে চলমান ঝুঁকির সম্মুখীন রয়েছে তাও নির্দেশ করে। যদি শূন্য দুর্ঘটনা হয় এবং আঘাত এবং মৃত্যু অজানা থাকে, তবে কিছুই পরিবর্তন করার দরকার নেই।

অজ্ঞাত কিছুকে আমরা কীভাবে প্রতিরোধ করব? নিয়োগকর্তারা এবং সরকার কীভাবে নিশ্চয়তা দেয় যে তারা কী ঘটেছে এবং কীভাবে হয়েছে তা স্বীকার না করলে এটি আর কখনও ঘটবে না?

কি ঘটেছে এবং কিভাবে ঘটেছে তা দোষারোপের বিষয় না। এটি কারণ এবং প্রভাব, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ সম্পর্কিত। বড় কর্পোরেশনের জন্য দোষ বোঝা যায় শুধুমাত্র দায়বদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে। প্রকৃতপক্ষে, দায়বদ্ধতার এই আবেশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকারের যথাযথ অধ্যবসায়কে দুর্বল বা সীমিত করে। “এটি কীভাবে ঘটল?” এবং “আমরা কীভাবে এটি আবার ঘটতে বাধা দেব?” দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সেটি নয়, দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হ’ল “আমাদের অবস্থান কী?” এই পরিহাস ভুলে যাওয়া উচিত নয়। শ্রমিকরা বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ, বিপজ্জনক কাজের অবস্থা এবং চরম তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসে এবং তবুও প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে মামলা, ক্ষতিপূরণের দাবি এবং সুনাম ক্ষতিগ্রস্থতার জন্য নিয়োগকর্তার আর্থিক প্রভাব।

বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আঘাতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তথ্য ক্ষতিপূরণ দাবির উপর ভিত্তি করে। এটি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং আঘাতের ধরন নির্ধারণ এবং প্রবণতা সনাক্ত করার একটি মূল মাধ্যম। কিন্তু এটি দ্বারা বুঝানো হয় যে কোনও শ্রমিকের উপর আঘাত বা অসুস্থতা যেগুলি তাদের কর্মসংস্থানের ধরন, অভিবাসন অবস্থা, লিঙ্গ বা বয়সের কারণে ক্ষতিপূরণ দাবির জন্য যোগ্য নয় তাও উৎস তথ্য থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করতে পারেনি, তাই এটি সংঘটিত হয়নি।

কাজ সম্পর্কিত আঘাত, অসুস্থতা, রোগ এবং মৃত্যুর তথ্যে দুঃখজনক নীরবতা অনির্ধারিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান (আউটসোর্সিং এবং ক্যাজুয়ালাইজেশন), অপ্রকাশিত কর্মসংস্থান সম্পর্ক এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি কম দৃশ্যমান হয়, তারপর পাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশু শ্রমের অন্ধকারে সেটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়।

অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে কাজ-সম্পর্কিত মৃত্যু, আঘাত বা অসুস্থতা সাধারণত রিপোর্ট করা হয় না এবং সরকারী তথ্যে অদৃশ্য থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার সুযোগের বাইরে বা তদন্তের অযোগ্য। অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির শ্রমিকরা এবং তাদের পরিবার পক্ষপাতদুষ্ট কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হয় যারা বিশ্বাস করে যে “অদক্ষ” স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তিরা সর্বদা দায়ী। এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ যে কোনও মৃত্যু, আঘাত বা অসুস্থতা কাজের সাথে সম্পর্কিত নয়।

জ্যাসপার ডালম্যান, একটি নেতৃস্থানীয় ডিজিটাল ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা একজন খাদ্য সরবরাহকারী রাইডার যখন একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন, তখন তার মৃত্যু কর্মস্থলে মৃত্যু নয়, একটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছিল। কাজ করার সময় আহত বা নিহত হাজার হাজার ডেলিভারি রাইডারকে কাজ সম্পর্কিত আঘাত এবং মৃত্যুর তথ্য থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ তারা শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃত নয়। আর যে রাস্তাগুলোতে তারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে সেগুলোকে তাদের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তারা অজ্ঞাতদের মধ্যে রয়েছেন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সি, জ্যাসপার ডালম্যান ফিলিপাইনের একজন ফুডপান্ডা ডেলিভারি রাইডার ছিলেন। জ্যাস্পার কাজ করার সময় ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩-এ একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

এছাড়াও অনিবন্ধিত বাণিজ্যিক মাছ ধরার জাহাজের হাজার হাজার অনথিভুক্ত জেলে সমুদ্রে আহত বা নিহত হয়েছে। ফিলিপাইনে মৎস্যজীবীদের অধিকারের স্বীকৃতির প্রচারণার ফলসরূপ ১৫৬ নং ডিপার্টমেন্ট অর্ডার, বাণিজ্যিক ফিশিং অপারেশনে নিয়োজিত ফিশিং ভেসেলের কর্মরত মৎস্যশ্রমিক কাজ এবং জীবনযাত্রার অবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী বিধি ও প্রবিধান, ২০১৬ গৃহীত হয়। এই নতুন বিধিমালাটি মাছ ধরার জাহাজকে কর্মক্ষেত্র হিসাবে বিবেচনা করে এবং দায়িত্বশীল নিয়োগকর্তা হিসেবে বাণিজ্যিক মাছ ধরার কোম্পানিগুলির সাথে একটি নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। যাইহোক, বিভাগীয় আদেশ নং ১৫৬ গৃহীত হওয়ার পর থেকে আট বছরে, বাণিজ্যিক মাছ ধরার শিল্প কার্যকরভাবে এর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে তদবির করছে।

সেই আট বছরে মৎস্যজীবীরা সাগরে আহত ও নিহত হচ্ছেন, তবুও এগুলি কাজ সম্পর্কিত আঘাত এবং মৃত্যু হিসাবে স্বীকৃত নয়। পরিত্যক্ত জেলে এবং সাগরে হারিয়ে যাওয়া মৎস্যজীবীরা একেবারেই স্বীকৃত নয়।

উইলফ্রেডো এস্টাম্পা, টুনা ফিশিং কর্পোরেশন, সিট্রা মিনা কর্তৃক বিদেশে পরিত্যক্ত শতশত জেলেদের মধ্যে ছিলেন। ফিলিপাইনে ফিরে আসার আগে তিনি মারা যান এবং তার মৃত্যুকে কখনই কাজ সম্পর্কিত মৃত্যু হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।

সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলেদের পরিবার আজ মরিয়া হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালায় না, বরং তাদের প্রিয়জন যে মৃত সেটির স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। মৃত্যুর ঘোষণা ছাড়া তারা দারিদ্র্য এবং প্রান্তিকতার মধ্যেও ভীষণ প্রয়োজনীয় বীমা দাবি করতে পারে না। এটি একই দারিদ্র্য এবং প্রান্তিকতা যা মৎস্যজীবীদের ঝুঁকিপূর্ণতা, তাদের অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং বিপজ্জনক কাজের পরিস্থিতি আরো বৃদ্ধি করে। এবং এই পরিবারগুলির জন্য তাদের প্রিয়জন- সেই সকল শ্রমিক যাদেরকে সরকার এবং নিয়োগকর্তারা শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে-মৃত্যুর কারণে তাদের দারিদ্র্য এবং প্রান্তিকতা আরও অবনতি হয়। তারা ঐ সকল হাজার হাজার অজানা শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে যাদের ২৮ এপ্রিল অবশ্যই স্মরণ করা উচিত।

OECD নির্দেশিকার ২০২৩ আপডেটটি হস্তক্ষেপ ছাড়াই শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন বা যোগদানের অধিকারকে পুনর্ব্যাক্ত করেছে।

দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সদাচরণ বিষয়ক বহুজাতিক উদ্যোগের জন্য OECD নির্দেশিকাগুলির ২০২৩ আপডেটটি কোম্পানির শ্রমিকদের সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকারকে সম্মান করার বাধ্যবাধকতাকে পুননিশ্চিত করেছে কীভাবে এই অধিকারকে সম্মান করা হয় সে সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশদ বর্ননা যুক্ত করে।

OECD নির্দেশিকা ২০১১, অধ্যায় পাঁচ কর্মসংস্থান এবং শিল্প সম্পর্ক, ১-এ উল্লেখ করেছে:

ক) বহুজাতিক এন্টারপ্রাইজ নিয়োজিত শ্রমিকদের নিজের পছন্দমত ট্রেড ইউনিয়ন এবং প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন প্রতিষ্ঠা বা যোগদানের অধিকারকে সম্মান করা।

২০২৩ আপডেটিতে এখন উল্লেখ করেছে:

ক) শ্রমিকদের পছন্দের উপর হস্তক্ষেপ করা এড়ানোর মাধ্যমে একটি ট্রেড ইউনিয়ন বা তাদের নিজস্ব পছন্দের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনে যোগদান করা সহ, শ্রমিকদের নিজের পছন্দমত ট্রেড ইউনিয়ন এবং প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন প্রতিষ্ঠা বা যোগদান করার অধিকারকে সম্মান করা।

এটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ বেশিরভাগ ট্রান্সন্যাশনাল কোম্পানি শ্রমিকদের নিজের পছন্দ মত ট্রেড ইউনিয়ন গঠন বা যোগদানের অধিকারকে সম্মান করার দাবি করলেও, তারা তাদের জাতীয় এবং/অথবা স্থানীয় ম্যানেজমেন্টকে সেই অধিকার প্রয়োগে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দেয়।

এই হস্তক্ষেপ কর্মক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপের অন্তর্ভুক্ত যা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন বা একটি ইউনিয়নে যোগদান করা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। ম্যানেজমেন্ট প্রায়ই দাবি করে যে তারা শুধুমাত্র তাদের শ্রমিকদের “পরামর্শ” দিচ্ছিল বা শ্রমিকরা তাদের কাছে পরামর্শ চাইতে এসেছিল। ম্যানেজমেন্ট এই দাবিও  করবে যে তারা ইউনিয়ন সম্পর্কে শ্রমিকদেরকে “শুধু জিজ্ঞাসা করেছে”।

“পরামর্শ” বা “শুধু জিজ্ঞাসা করা” হস্তক্ষেপের মধ্যে পড়ে এবং শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে পছন্দ করার অধিকার লঙ্ঘন করে। ইউনিয়নে যোগদান বা গঠন করার স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত অর্থ হল যে ম্যানেজমেন্টের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা প্রভাব  মুক্ত হয়ে শ্রমিক তার সিদ্ধান্ত নেয়। ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শ্রমিকদের পছন্দকে প্রভাবিত করবে না।

OECD  (TUAC) এর  ট্রেড ইউনিয়ন উপদেষ্টা কমিটি কিছু কার্যকলাপ বা বিবৃতির উদাহরণ প্রদান করেছে যা “শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন বা যোগদানের ইচ্ছায় হস্তক্ষেপ করে”:

  • শ্রমিকদের বলা যে তারা একটি “টিম” বা “পরিবার” এবং তাদের প্রতিনিধিত্বের বা যৌথ দর কষাকষি চুক্তির প্রয়োজন নেই।
  • যৌথ দর কষাকষির জন্য শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাওয়া ট্রেড ইউনিয়নকে অপমান করা।
  • এমন কোনো বিবৃতি দেওয়া বা এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যা একজন শ্রমিককে ভাবতে বাধ্য করবে যে তারা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করলে তাদের কাজ এবং আয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে।
  • একটি ধারণা তৈরি করা যে OECD নির্দেশিকাগুলি এন্টারপ্রাইজের জন্য প্রযোজ্য নয়, তাই শ্রমিকরা এগুলোর বাস্তবায়ন চেয়ে কিছু অর্জন করতে পারবে না।
  • শ্রমিকদের প্রতিনিধির পছন্দকে অস্বীকার বা বিলম্বিত করার জন্য বিচারিক আপিল ব্যবহার করা।
  • শ্রমিকরা প্রতিনিধির জন্য তাদের ইচ্ছা প্রদর্শন করার পরে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কাজের স্থানান্তর বা আকস্মিক রূপান্তর।

এই পদক্ষেপগুলির যে কোনও একটি সম্ভাব্যভাবে OECD নির্দেশিকাগুলির লঙ্ঘন গঠন করে।

এইসব এবং অনুরূপ পদক্ষেপগুলি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার এবং আইএলও কনভেনশন নং ৮৭ এবং ৯৮ এর অধীনে সংগঠিত করার অধিকারকে ক্ষুন্ন করে। এগুলি হ’ল মৌলিক কনভেনশন যার সাথে সরকার  এবং নিয়োগকর্তা আবদ্ধ। এর মানে হল যে এটি মেনে চলা এবং শ্রমিকদের সংগঠনের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের অধিকারকে সম্মান করার বাধ্যবাধকতা বাধ্যতামূলক, স্বেচ্ছামূলক নয়।

International Women’s Day 2024 posters in 19 languages

International Women’s Day 2024 posters in 19 languages

অসমীয়া Assamese

বাংলা Bengali

繁體字 Chinese 

دری Dari

ગુજરાતી Gujarati 

हिन्दी Hindi

Bahasa Indonesia

日本語 Japanese

ភាសាខ្មែរ Khmer

한국어 Korean

ဗမာဘာသာစကား Myanmar

नेपाली Nepali

Pashto پشتو

سندھی Sindhi

Sinhala සිංහල භාෂාව

தமிழ் Tamil

ภาษาไทย Thai

Urdu اردو

English

নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ চাকরি এবং অপেক্ষাকৃত ভালো মজুরি – আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৪

নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ চাকরি এবং অপেক্ষাকৃত ভালো মজুরি – আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৪

 

নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ চাকরি এবং অপেক্ষাকৃত ভালো মজুরি – Poster 1 PDF

নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ চাকরি এবং অপেক্ষাকৃত ভালো মজুরি – Poster 2 PDF